Info

ঈদুল আযহা নামাজের নিয়ত-নিয়ম ও তাকবির [আরবি ও বাংলা উচ্চারন]

ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় দুটি উৎস গুলির মধ্যে অন্যতম এবং ইবাদাতময়একটি উৎসব হচ্ছে ঈদুল আযহা। আর এই ঈদুল আযহা উদযাপন শুরু হয় ঈদের সালাত আদায়ের মধ্যে দিয়ে। যেমন করে ঈদুল ফিতর উৎসব পালন করা শুরু হয় ঈদ-উল-ফিতরের সালাত আদায়ের মধ্য দিয়ে। তাই প্রত্যেক মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ উল আযহার সালাত অন্যতম এবং এই সালাত পালন করার পর পশু কুরবানী দেয়ার মধ্যে দিয়ে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা হয়। কিন্তু আপনারা যারা ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ত- নিয়ম ও তাকবীর (আরবি এবং বাংলা উচ্চারণ সহ) জানতে চেয়েছেন তারা আমাদের এখানে এসে ভালো করেছেন।

কারণ আমরা এখানে ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম এবং এই নামাজ কোন নিয়তে আদায় করতে হয় সেইসাথে এই নামাজের তাকবীর সম্পর্কে আলোচনা করব। আপনারা যাতে এই নামাজের দোয়া সমূহ আরবি এবং বাংলা উচ্চারণ সহকারে পেয়ে যান তার জন্য আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে সকল তথ্য তুলে ধরব। আপনারা যদি আমাদের ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়েন তাহলে অবশ্যই আপনারা সকল তথ্য জেনে নিতে সক্ষম হবেন। এবার চলুন আমরা আমাদের মূল আলোচনায় চলে যাই।

ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ত- নিয়ম

ঈদুল আযহা অর্থাৎ কোরবানি ঈদের দিন সকল মুসলিমদের সালাত আদায় করতে হয়। আর এই নামাজ দুই রাকাত হয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ নামাযের মত করে ঈদের নামাজ নয়। ঈদুল আজহার নামাজের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং নিয়ত রয়েছে। তাই ঈদুল আযহার নামাজ পড়ার পূর্বে অবশ্যই সকল মুসলমানের নামাজের নিয়ত এবং নিয়ম জেনে নেয়া আবশ্যক। আপনারা যাতে ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম জেনে সঠিকভাবে নিয়ত করতে পারেন এবং সম্পূর্ন নামাজ সঠিকভাবে আদায় করতে পারেন তার জন্য আমরা আপনাদেরকে ঈদের সালাতের নিয়ম জানিয়ে দিব।

তবে আমাদের অবশ্যই জেনে রাখা উচিত যে ঈদের সালাত পড়া হচ্ছে ওয়াজিব। তাই ঈদের সালাত পড়ার জন্য ঈদের দিন যথাযথ সময়ে নিয়ত করে ঈদের সালাত আদায় করতে হবে। ঈদের সালাতের ভিন্নতা রয়েছে তাকবীরের জন্য। তবে আপনারা ভাবেন না আমরা আপনাদেরকে ঈদের সালাতের নিয়ত এবং নিয়ম জানিয়ে দিব।

দেখুন: কোরবানির মাংস বন্টন করার সঠিক নিয়ম

ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ত

যেকোনো নামাজের নিয়ত করার পূর্বে অবশ্যই নামাজ পড়ার ইচ্ছা পোষণ করতে হয়। তবে নিয়ত উচ্চারণ করে বলতে হবে এমন কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। কিন্তু অবশ্যই আপনি যদি নামাজের জন্য মনে মনে নিয়ত করে থাকেন তাহলে আপনার নামাজের নিয়ত হয়ে যাবে। তবুও আপনারা যারা ঈদুল আজহার দুই রাকাত সালাত আদায় করার জন্য ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ত জানতে চাইছেন তাদের জন্য আমরা নিম্নের আরবি এবং বাংলা উচ্চারণ সহ ঈদুল আযহা নামাজের নিয়ত দিয়ে দিচ্ছি-

ঈদুল আযহার নামাজের আরবি নিয়ত-

نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

ঈদুল আযহা নামাজের বাংলা উচ্চারণ নিয়ত-

‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাইন সালাতিল ইদিল আযহাঁ মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াঝিবুল্লাহি তাআলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝঝিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি ‘আল্লাহু আকবার’।’

ঈদুল আযহা নামাজের বাংলা অর্থ-

অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে দাড়িয়ে কেবলামুখী হয়ে আমি ঈদুল আযহা দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আল্লাহর জন্য আদায় করছি- ‘আল্লাহু আকবার’।

ঈদুল আযহা নামাজের নিয়ম

আপনারা যারা ঈদুল আযহা নামাজের নিয়ম জানতে চেয়েছেন তাদের জন্য আমরা নিম্নে ঈদুল আযহা নামাজের নিয়ম উল্লেখ করছি-

সবার প্রথমে অজু করে পাক-পবিত্র হয়ে সকলে ইমামের পেছনে কেবলা মুখী হয়ে দাঁড়াতে হবে।

এরপর ইমামের সঙ্গে তাকবীরে তাহরীমা আল্লাহু আকবার বলে দুই হাত অর্থাৎ উভয় হাত বাধতে হবে।

তাকবীরে তাহরীমা পড়ার পর সানা পাঠ করতে হবে।

অতিরিক্ত তিনবার তাকবীর দিতে হবে।

প্রতি তাকবীর পড়ার সময় অবশ্যই ৩ তাজবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকতে হবে।

প্রথম এবং দ্বিতীয় তাজবীর পাঠ করার সময় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দিতে হবে।

তৃতীয় তাকবীর  দেওয়ার পর উভয় হাত তাকবীরে তাহরীমার মত করে বেঁধে নিতে হবে।

আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ পাঠ করতে হবে।

এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে।

সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর যে কোন একটি সূরা মিলিয়ে পাঠ করতে হবে।

এরপর আমরা সাধারণত দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার সময় যেভাবে রুকু এবং সেজদা দিয়ে থাকি ঠিক সেভাবে রুকু এবং সেজদা দিতে হবে।

এরপর দ্বিতীয় রাকাত নামাজ আদায় করার জন্য উঠে যেতে হবে।

বিসমিল্লাহ করে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর যে কোন একটি সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে।

এরপর তিন তাকবীর দিতে হবে।

প্রথম রাকাতে যেভাবে প্রথম এবং দ্বিতীয় তাকবীর দেওয়ার সময় উভয় হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন ঠিক সেভাবে আবার তাকবীর দিতে হবে।

তৃতীয় তাকবীর দেওয়ার পর উভয় হাত তাকবীরে তাহরীমার মত করে বেঁধে নিতে হবে।

এখন রুকুর তাকবীর দিয়ে রুকু এবং সেজদা আদায় করতে হবে।

এখন বৈঠকে বসার পর তাশাহুদ, দুরুদ শরীফ এবং দোয়া মাসুরা পাঠ করে সালাম ফেরাতে হবে। এবং এই সালাম ফেরানোর মধ্যে দিয়ে ঈদুল আযহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

ঈদুল আযহার তাকবীর

আপনারা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করার সময় তাকবীর দিতে হয়। তাই আমরা আপনাদের জন্য নিম্নে ঈদুল আযহার তাকবীর আরবি এবং বাংলা উচ্চারণ নিয়ে এসেছি।

ঈদুল আযহার তাকবীর এর আরবি উচ্চারণ-

اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد

ঈদুল আযহার তাকবীর এর বাংলা উচ্চারণ-

‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

ঈদুল আযহার খুতবা

ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতর ঈদের নামাজের খুতবা দেয়া হয়। আর এই খুতবা দিয়ে থাকেন ইমাম। ঈদের নামাজের খুতবা পড়া সুন্নত এবং যে সকল মুসল্লীরা ঈদের নামাজের খুতবা শোনেন তাদের জন্য ঈদুল আযহার খুতবা জীব হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে সাধারণত খুতবা পাঠ করার পর দোয়া পাঠ করা হয়। তাই ঈদের নামাজ আদায় করার পর ইমাম সাহেব খুতবা দিয়ে থাকেন এবং সেই খুতবা মুসল্লিদের মনোযোগ সহকারে শুনতে হয়। তবে ঈদের নামাজের খুতবা দেয়ার কোন বাধ্যতামূলক নয় কারণ ইসলামিক ইতিহাসে এমন অনেক মতভেদ রয়েছে যেখানে ঈদের নামাজের খুতবা না দিলেও ঈদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

ঈদুল আযহার গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত

ঈদুল আযহার উদযাপন করার পূর্বে অবশ্যই মুসলমানদের ঈদুল আযহা গুরুত্বপূর্ণ সোমনাথ গুলোর দিকে নজর দেয়া উচিত। তাই আপনাদের কে ঈদ উল আযহার গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত গুলো উল্লেখ করা হল-

  • সকালে ঘুম থেকে উঠে যেতে হবে।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েই গোসল করতে হবে।
  • মিসওয়াক করতে হবে।
  • সামর্থ্য অনুসারে নতুন পোশাক পরিধান করতে হবে।
  • আতর ব্যবহার করতে হবে, সুরমা ব্যবহার করতে হবে তবে এর কোন বাধ্যতামূলক নেই।
  • আপনি যে এলাকায় অবস্থান করবেন জামাতে গিয়ে ফজর নামাজ আদায় করতে হবে।
  • ঈদগাহে হেঁটে যেতে হবে
  • ঈদুল আযহার ঈদের সালাত আদায় করার জন্য খালি পেটে অর্থাৎ কিছু নাখেয়ে ঈদের সকালে ঈদগায় যেতে হবে।
  • ঈদুল আযহার পবিত্র কোরবানির মাংস বিয়ে খাওয়া শুরু করতে হবে।
  • ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক রাস্তা ব্যবহার করা এবং আসার সময় বিপরীত রাস্তা ব্যবহার করা।
  • সকাল সকাল পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করা।
  • ঈদের সালাত অবশ্যই ঈদগাহ গিয়ে পড়া উচিত কিন্তু যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে বাসায় পড়া যেতে পারে অথবা মহল্লার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে নিতে পারবেন।
  • শরীয়তের সীমাবদ্ধ এবং নিয়ম-নীতি মেনে সবার মধ্যে খুশি ভাগাভাগি করে নিতে হবে।

যে সকল মুসলিম ভাই ও বোনেরা ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ত- নিয়ম ও তাকবীর সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন তারা আশা করছি আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ করার মধ্যে দিয়ে জানতে পেরেছেন। আমরা আপনাদের কাজে ঈদুল আজহার খুটিনাটি বিষয় সমূহ তুলে ধরেছি যাতে করে আপনারা ঈদুল আযহার সকল তথ্য একসাথে পেয়ে যান। এছাড়াও আপনারা যদি ঈদুল আযহা সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে চান অথবা আরও কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আপনারা আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

Examresultbd

I love to Write Education and Job Information Article. I hope you are enjoying to visit Examresultbd. Follow us on Google+ To Get Result Updates.

Related Articles

Back to top button